ঢাকা, জুন ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে যে কোনো ধরনের আলোচনা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই হতে হবে।
গণভবনে শুক্রবার রাতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একথা জানান।
আশরাফ বলেন, “আজকের (শুক্রবার) সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আলোচনা হতে হবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর মধ্যে থেকে।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধীদলের ১০ জুনের আলটিমেটামের বিষয়ে আশরাফ আরো বলেন, “আলটিমেটাম রাজনীতির জন্য হাস্যকর। আমরাও বিরোধীদলে থাকতে আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। ১০ তারিখের আলটিমেটাম রাজনীতির অংশ।”
“আলোচনা কি হচ্ছে না? চলছে না?” পাল্টা প্রশ্ন রাখেন আশরাফ।
আলোচনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, “পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কি আলোচনা হয়? আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি- আলোচনার সব রাস্তা খোলা, সব দরজা খোলা।”
নির্দিষ্ট সময়ে সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে এই নিশ্চয়তা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত দলই সরকার গঠন করবে। আপনারা তখন আমার কাছ থেকে মিলিয়ে নিয়েন।”
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ চার ঘন্টার কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক, চলমান রাজনীতি ও বাজেট ছাড়াও চীনের সঙ্গে কানেকটিভিটি ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ নিয়েও আলোচনা হয়।
আশরাফ বলেন, সভায় দলের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের প্রতিবেদনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ের অধিকাংশ সম্মেলন হয়ে গেছে এবং পরবর্তী জাতীয় সম্মেলনের আগেই সব সম্মেলন সম্পন্ন হবে বলেও আশরাফ আশা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে অভিনন্দন জানানো হয়।
কিছু বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন মনে করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা।
এ প্রসঙ্গে আশরাফ বলেন, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের মধ্যে যারা সাংসদ- তারা সংসদে প্রস্তাব আনবেন।
“মোবাইল ফোনের কলচার্জের ওপর সারচার্জ বাদ দেওয়া যায় কিনা- তাও অনেকে বলেছেন,” যোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, শতভাগ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে, উচ্চাকাঙ্খা থাকতে হবে।
বাজেটের সমালোচনার জবাবে আশরাফ বলেন, “কিছু কথা আমার ৫০ বছরের রাজনীতির জীবনে আমি শুনে আসছি- বাজেট জনবিরোধী, বাজেট উচ্চাভিলাষী।”
বিরোধীদলীয় নেতাকে সংসদে গিয়ে তার ‘বিকল্প বাজেট’ উত্থাপনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “দু’টো বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।”
শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায্য অধিকার প্রয়োগ করে দাবি আদায়ের জন্য বিরোধীদলের প্রতি আহবান জানান আশরাফ।
“হরতালের নামে জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ মারা কারো কাম্য নয়।”
চীনের সঙ্গে কানেকটিভিটি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরে আশরাফ বলেন, তিনি শুক্রবার সকালে চীন সফর করে ফিরেছেন। চীনের সঙ্গে কানেকটিভিটির কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। রাস্তা আছে। শুধু আধুনিক করতে হবে।
“আমেরিকা-ইউরোপের সঙ্গে বছরে ১০/১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্ভব হলে চীনের সঙ্গেও সম্ভব।”
চীনের কুনমিংয়ে প্রচুর বাংলাদেশি পণ্য পাওয়া যায় বলেও আশরাফ তার সফরের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সে দেশের বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদনে আগ্রহী।
শুক্রবারের বৈঠকে গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়েও আলোচনা হয় এবং সবাই এর গুরুত্ব সম্পর্কে মত দেন।
আশরাফ বলেন, “সবাই মনে করেন- দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র বন্দরের কোনো বিকল্প নেই। অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করে গভীর সমুদ্র বন্দর করা যেতে পারে।”
বৈঠকে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠনের সম্মলনের বিষয়ে চ’ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যুবলীগের সম্মেলন হবে ৭ জুলাই, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১১ জুলাই এবং শ্রমিক লীগের ১৬ জুলাই। বাকি সংগঠনগুলোর সম্মেলনের তারিখ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করা হবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এইচএ/০০০৪ ঘ.