সর্বশেষ :
partners logo
1:33 pm BdST, Wednesday, May 22, 2013
বিডিআর বিচার স্থগিত ও র‌্যাব ভাঙার সুপারিশ
Wed, Jul 4th, 2012 2:02 pm BdST
 
ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিডিআর বিদ্রোহে অভিযুক্তদের ‘গণ বিচার’ প্রক্রিয়ায় ‘গলদ’ রয়েছে দাবি করে তা এখনই স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

একইসঙ্গে ব্যাপক বিচার বহির্ভূত হত্যার অভিযোগ থাকা ‘এলিট বাহিনী’ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ভেঙে দিয়ে একটি নতুন ‘বেসামরিক’ বাহিনী গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক এ সংস্থা।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সন্দেহভাজন ও অভিযুক্তদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ বলেছে, বিচারের জন্য আটক অন্তত ৪৭ জন বিডিআর সদস্য হাজতে থাকা অবস্থায় ‘নিহত’ হয়েছেন। তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর প্রমাণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হাতে রয়েছে।

ওই সময় আটক প্রায় ৬ হাজার বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদস্য ন্যায়বিচার পাবেন কি না- তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংস্থা এইচআরডাব্লিউর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, “র‌্যাব ভেঙে দিয়ে পুলিশের মধ্যে একটি অসামরিক ইউনিট বা নতুন সংস্থা তৈরি করা হোক, যারা অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় এর ভিত্তি হিসাবে মানবাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দেবে।”

র‌্যাব, ডিজিএফআই এবং অন্যান্য ‘সুরক্ষাবাহিনীর’ মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ব্যাপক নির্যাতন ও খারাপ আচরণের’ অভিযোগ তদন্তে ‘অর্থপূর্ণ’ পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে অনেকই ‘অনানুষ্ঠানিক আটক কেন্দ্র’ রয়েছে মন্তব্য করে অ্যাডামস বলেন, “এসব আটক কেন্দ্র বন্ধ করা হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনেক কমে যাবে।”

প্রতিবেদনে এমন একটি স্বাধীন তদন্তকারী ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে, যাদের পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞতা, ক্ষমতা এবং ব্যাপক তদন্তের সক্ষমতা থাকবে। এই টাস্ক ফোর্স বিডিআর বিদ্রোহের সন্দেহভাজনদের ওপর ‘অত্যাচার, খারাপ আচরণ এবং বিচার বহির্ভূত মৃত্যুর’ অভিযোগগুলোর নিস্পত্তি করবে।

বিদ্রোহের অভিযোগে আটক বিডিআর সদস্যদের হেফাজতে নির্যাতন করা হচ্ছে দাবি করে অ্যাডামস বলেন, “এতে কুখ্যাত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ সালে র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর গত বছর পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক লোক এই বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

‘গণবিচারে গলদ’

এইচআরডিব্লিউর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক তেজ থাপা বলেন, “বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের মধ্যে মৌলিক গলদ রয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে স্বাভাবিক যে বিচার প্রক্রিয়া রয়েছে তা শুরু করা হোক। কারণ আসামিদের অনেকেই জানেন না তাদের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ। এই বিচার প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন।”

‘ভয় কখনো আমাকে ছেড়ে যায় না: বাংলাদেশ রাইফেলস-এর ২০০৯ বিদ্রোহের পর অত্যাচার, হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যুগুলো এবং অন্যায্য বিচারগুলো’ শীর্ষক ৫৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বিডিআর সদস্যরা ন্যায় বিচার পাবেন কিনা- তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। সারা দেশে বিভিন্ন বিডিআর দপ্তরেও বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ঘটনার পর এ বাহিনীর নাম বদলে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবি। বিদ্রোহের ঘটনায় বাহিনীর নিজস্ব আইনে এবং হত্যার ঘটনায় ফৌজদারী আদালতে আলাদাভাবে মামলা ও বিচার শুরু হয়।

তেজ থাপা বলেন, ওই সময় আটক জওয়ানদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং নিহতদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এইচআরডব্লিউ।

“অনেক ক্ষেত্রে সেনা, র‌্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থার লোক তাদের (বিডিআর সদস্য) আটক করে ভয়াবহ অত্যাচার চালিয়েছে। আটকের পরেই এদের বেশি নির্যাতন করা হয়েছে”, বলেন তিনি।

এইচআরডব্লিউর এই গবেষক বলেন, আটক জওয়ানদের হাত ও পায়ের পাতায় প্রায়ই পেটানো হতো। কয়েক জন জানিয়েছেন, তাদের ছাদ থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হতো। যারা এসব নির্যাতন পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন, তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেরই কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে অথবা আংশিক পক্ষাগাতগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।”

নির্যাতনের শিকার কয়েক বিডিআর সদস্যদের পরিবারের বক্তব্য হুবুহ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

তেজ থাপা বলেন, “বিভিন্ন সংস্থার নির্যাতনে ৪৭ জনের যে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে তা সর্বনি¤œ সংখ্যা। আমরা নিশ্চিত, নির্যাতনেই এদের মৃত্যু হয়েছে। কারণ সবার সঙ্গে কথা বলেই আমরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছি। অনেক পরিবার আছে যারা কথা বলেননি, তাদেরকে আমরা প্রতিবেদনে আনতে পারিনি।”

সরকারকে এ বিষয়ে আগেই জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকারও এ বিষয়ে অবহিত ছিল বলে ফাঁস হয়ে যাওয়া উইকিলিকস-এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।”

দুটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এইচআরডব্লিউর হাতে এসেছে জানিয়ে ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, নির্যাতনে নিহত অনেকেরই ময়না তদন্ত হয়নি, শুধু লাশ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

“র‌্যাব ও অন্যান্য সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলেও সরকার সামরিক বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করতে ভয় পাচ্ছে”, বলেন তিনি।

এর ব্যাখ্যায় বিডিআর বিদ্রোহের পরের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করে অ্যাডামস বলেন, “সামরিক বাহিনী বিদ্রোহ দমন করতে চাইলেও সরকার তখন তা করতে দেয়নি। পরে সামরিক বাহিনী থেকে অভিযোগ আসে সরকার সামরিক রাহিনীর স্বার্থ সংরক্ষণ করছে না। সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়।”

প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করার আগে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতিবেদনটি তৈরির আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ৬০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যাদের মধ্যে কারা হেফাজতে নিহতদের পরিবারের সদস্য, দুই পক্ষের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/এসইউ/জেকে/১৭৩০ ঘ.
 
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
Share |
 

bdnews-twitter

এ সম্পর্কিত আরো খবর



Rank