সর্বশেষ :
partners logo
5:18 am BdST, Sunday, May 26, 2013
‘আঁকা হলো না নিনিতের ছবি’
Mon, Jul 23rd, 2012 3:48 pm BdST
 
সুলাইমান নিলয়
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা, জুলাই ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ছেলে নিষাদের একটি ছবি আঁকা শেষ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ, হাসিমাখা শাওনেরও স্কেচ হয়েছে। বাকি রয়ে গেল শুধু ছোট ছেলে নিনিতের প্রতিকৃতি।

সাহিত্যিক, শিল্পী ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর নিভৃতে লেখালেখির জন্য প্রায় এক যুগ আগে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দখিন হাওয়া নামের বাড়িটি করেন হুমায়ূন।

দখিন হাওয়ার ষষ্ঠতলায় দরজা পেরিয়ে অতিথিদের বসার জায়গা। এর পরে একদিকে ডাইনিং টেবিল, অন্যদিকে হুমায়ূনের বৈঠকখানা।

এই বৈঠকখানাজুড়ে রয়েছে তিন ভাঁজে মোড়ানো মাদুর, বাঁয়ে হুমায়ূনের আঁকা নিষাদের একটি ছবি। সামনে নিচু একটি টেবিল, দুই পাশে বইয়ের আলমারি, আর নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আরো কিছু ছবি।

প্রকাশনা সংস্থা অন্য প্রকাশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে বসেই হুমায়ূন আহমেদ অনেক সময় লেখালেখি করতেন, ছবি আঁকতেন।”

দেওয়ালে ঝোলানো ফ্রেমে বাঁধানো কিছু আলোকচিত্রের মধ্যে কানে ফুল গুঁজে তোলা মেহের আফরোজ শাওনের হাসিমাখা একটি ছবিও দেখা যায় সেখানে। এর নিচেই ছিল ‘চিত্রকর’ হুমায়ূনের হাতে আঁকা স্ত্রীর স্কেচ।

রুবেল জানান, গত মে মাসে নিউ ইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে নিষাদের ছবিটি এঁকেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। আঁকা শেষ হওয়ার পর ছবিটি হুমায়ূনের মাদুর-আসনের বাম পাশে টানিয়ে দেওয়া হয়।

রুবেল জানান, এরপরই শাওনের ছবিটি আঁকা শুরু করেন হুমায়ূন। প্রায় শেষ করে আনলেও শাওনের ছবিতে শেষ আঁচড়টি আর দেওয়া হয়নি। এর আগেই চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্কে যান লেখক।

আলোকচিত্রগুলোর মধ্যে নিনিতের একটি ছবি রয়েছে, আছে মায়ের সঙ্গে তোলা নিষাদ-নিনিতের হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবিও।

এ ছবিগুলোও নিজের হাতে আঁকতে চেয়েছিলেন হুমায়ূন। কিন্তু আগেই বিদায় নিতে হলো তাকে।

প্রায় সাত মাস আগে দখিন হাওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব নেন মো. রাসেল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “স্যারের নাটক দেখে আগে থেকেই উনাকে চিনতাম। গত মে মাসে আমেরিকা থেকে ফিরে আসার পরই তাকে প্রথম সরাসরি দেখি।

“প্রথম দেখাতেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছ? কাজ কেমন চলছে? কোনো সমস্যা হলে আমাকে অবশ্যই জানাবে।”

অস্ত্রোপচারের জন্য আবার নিউ ইয়র্কে যাওয়ার আগে সবার মন খারাপ দেখে হুমায়ূন বলেন, ঈদের পরই তিনি আবার ফিরছেন।

“কোন ঈদ তা নির্দিষ্ট করে না বললেও তার কথা আমাদের মধ্যে একটি আশা জাগিয়েছিল। ভাবতে কষ্ট হচ্ছে, উনি আর আসবেন না।”

বাড়ির অপর নিরাপত্তারক্ষী মাসুদ রানা বলেন, “স্যারের লাশ বিমান বন্দর থেকে এখানে আনার কথা ছিল। কিন্তু তা হলো না। স্যারকে শেষবারের মতো দেখতে পারলাম না।”

অবসর প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী এবং দখিন হাওয়ার বাসিন্দা আলমগীর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মেতে থাকতে হুমায়ূন আমাকে এখানে নিয়ে আসেন। পরে মাজহারও (অন্য প্রকাশের) আসে। কিন্তু এই ভবনে তিনি আর ফিরবেন না।”

হুমায়ূনকে দখিন হাওয়ায় আনা হতে পারে- এই খবরে সকাল থেকে তার বাড়ির সামনে সমবেত হন নানা বয়সী মানুষ।

ধানমণ্ডি ৩ নম্বরের বাসিন্দা গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন,“হুমায়ূন আহমেদকে শেষবারের মতো দেখার জন্য আসলাম। শহীদ মিনারে ভিড়ের মাঝে গেলে তাকে আর দেখতে পাব না। কিন্তু এখানেও তাকে আনা হলো না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/এএইচ/জেকে/১৫৪৫ ঘ.
 
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
Share |
 

bdnews-twitter

এ সম্পর্কিত আরো খবর



Rank