ইয়াঙ্গুন, মে ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দীর্ঘ ২৪ বছর পর মিয়ানমারের বাইরে থাইল্যান্ড সফরে গিয়ে বীরোচিত সংবর্ধনা পেয়েছেন নোবেল বিজয়ী গণতান্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চি।
তাকে স্বাগত জানাতে রাজধানী ব্যাংককের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায় মিয়ানমারের ১ হাজারেরও বেশি শরণার্থী।
তারা সু চির ছবি হাতে পতাকা উড়িয়ে তাকে অভিনন্দন জানায়। হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদন জানান সু চিও ।
উল্লাসিত জনতার উদ্দেশে প্রথম ভাষণে সু চি অভিবাসী বার্মিজ কর্মীদের সহায়তা করার অঙ্গীকার করেন। তাদের অধিকার আদায় এবং ভালো কাজের পরিবেশের জন্য কাজ করে যাবেন বলে জানান তিনি।
৪ দিনের এ সফরে সু চির মিয়ানমারের সীমান্ত শিবিরের শরণার্থীদের পরিদর্শন করতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সু চি থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন মঙ্গলবার। আগামী শুক্রবার ব্যাংককে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম অন ইস্ট এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।
মঙ্গলবার রেঙ্গুন বিমানবন্দর ছাড়ার সময় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে সু চি এএফপি কে বলেন, “এ সফর আমার কাজেরই অংশ। আমি ৪/৫ দিন সেখানে থাকব। একটি শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করব আমি।”
থাইল্যান্ডের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আছে প্রায় ১৩০,০০০ বার্মিজ শরণার্থী। মিয়ানমারে দমনপীড়নের মুখে তারা থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে।
সু চি থাইল্যান্ড সফরের পর আবার দেশে ফিরবেন এবং তারপর জুনে ইউরোপ সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
গত এপ্রিলে মিয়ানমারের উপনির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করে এনএলডি। এতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সু চি, যাকে ১৫ বছরেরও বেশি সময় সামরিক জান্তার আদেশে গৃহবন্দি থাকতে হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর চাপে মিয়ানমারের সামরিক সরকার সীমিত আকারে গণতন্ত্রের চর্চা শুরুর পর গত বছর মুক্তি পান ৬৬ বছর বয়সী সু চি।
তার বাবা অং সান ছিলেন মিয়ানমারে বিট্রিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা। বিট্রিশ পণ্ডিত মাইকেল এরিসকে বিয়ে করার পর সু চি অনেক বছর ব্রিটেনে ছিলেন।
১৯৮৮ সালে মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের নেতৃত্বে চলতে থাকা গণতান্ত্রি¿ক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
আন্দোলনটি ব্যর্থ হলে ১৯৮৯ সালে প্রথম আটক হন সু চি। এর পরবর্তী ২১ বছর বিভিন্ন সময় কারাগারে এবং ১৫ বছর গৃহবন্দি করে রাখা হয় তাকে।
এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে দেশ ছাড়ার সুযোগ পেলেও সু চি তা ফিরিয়ে দেন। তার আশঙ্কা ছিল, একবার বিদেশে গেলে তাকে আবার ফিরতে বাধা দেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি নির্বাচনে জিতে পার্লামেন্টে বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার দীর্ঘদিন পর পাসপোর্ট হাতে পান সু চি।
চলতি বছর ১৪ জুন জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন এবং ১৮ জুন এক সপ্তাহের সফরে ব্রিটেনে যাওয়ার কথা রয়েছে মিয়ানমারের এই নেত্রীর। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/কিউএইচ/এলকিউ/১৫০৬ ঘ.