ঢাকা, মে ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাফর আহম্মেদ খানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল হোসেন এ পরোয়ানা জারি করেন।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না সে বিষয়ে আগামী ২৬ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বুধবার সকালে দায়ের করা এ মামলার আরজিতে বাদিনী রেবেকা পারভীন বলেন, ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দেনমোহর ছিল ১ লাখ এক টাকা।
বিয়ের সময় জাফর আহম্মেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাদিনীর পরিবার তাকে ২৫ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক্্র সামগ্রী, আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড় ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা দেয়।
পরে জাফর আহম্মেদ-রেবেকা দম্পতির একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এদের নাম পুষ্পিতা আহম্মেদ রোজ (১৮) এবং অর্মত আহম্মেদ অমি (১৪)। বাদিনীর পরিবার অর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকায় বিভিন্ন সময় অভিযুক্তকে তার দাবি অনুযায়ী যৌতুক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
আরজিতে বলা হয়, কানাডায় পিএইচডি করার জন্য স্ত্রী রেবেকার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেন জাফর আহম্মেদ। কানাডা থেকে ৬ বছর পর দেশে ফিরে ঢাকার মোহাম্মদপুরে জমি কেনা বাবদ ২০০৮ সালের ৪ মে তারিখ আরো ২১ লাখ টাকা, সাভারে জমি কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা যৌতুক হিসাবে নেন জাফর।
পরে স্ত্রীকে চাপ দিয়ে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে এর অর্থও জাফর আহম্মেদ নেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অধ্যাপক জাফর আহম্মেদের সঙ্গে তার এক ছাত্রীর ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক ছিল বলে আরজিতে দাবি করা হয়। এ সম্পর্কে স্ত্রী রেবেকা জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, এ বছরের ১৬ মার্চ গাড়ি কেনার জন্য আরো ১৫ লাখ টাকা নেন জাফর আহম্মেদ। কিন্তু টাকা নিয়েও গাড়ি না কেনায় বাদিনী সে বিষয় জিজ্ঞেস করলে তাকে আবারো মারধর করা হয়।
বাদিনীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল এবং প্রদীপ দেবনাথ।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এ তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন প্রদীপ দেবনাথ।
এ বিষয়ে জানতে জাফর আহম্মেদ খানের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/এইচএ/২০০৭ ঘ.