সর্বশেষ :
partners logo
6:21 pm BdST, Saturday, May 18, 2013
ভিওআইপি লাইসেন্স নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি টানাপোড়েন
Sun, Jun 3rd, 2012 1:18 pm BdST
 
শামীম আহমেদ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

ঢাকা, জুন ০২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপির লাইসেন্স প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও মন্ত্রনালয়ের মধ্যে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে লাইসেন্সের খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) পাঠিয়েছে।

কিন্তু ওই নীতিমালায় আইন অনুসরণ করা হয়নি উল্লেখ করে পুনর্বিবেচনার জন্য গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে বিটিআরসি।

অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করে বিষয়টিকে লাইসেন্সের আওতায় আনতে গত বছর এই নীতিমালা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে অনুযায়ী, গত এপ্রিলেই ভিওআইপির লাইসেন্স প্রক্রিয়া শুরুর কথা থাকলেও মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির চিঠি চালাচালিতে দীর্ঘসূত্রতার দিকে যাচ্ছে এ প্রক্রিয়া।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বোস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চূড়ান্ত নীতিমালায় লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য প্রতিষ্ঠানের আবেদন মূল্যায়ন করে নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাছাই কমিটি করার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের কাছে রাখা হয়েছে। লাইসেন্সের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ব্যাপারে বিটিআরসির প্রস্তাবও বাতিল করা হয়েছে নীতিমালায়।

“আবেদন মূল্যায়ন করে নম্বর পদ্ধতি ও বাছাই কমিটি ইত্যাদি কাজ বিটিআরসির হাতে থাকলে অনেক সময় ক্ষেপণ হয়। তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সচিব বলেন, “বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এ লাইসেন্স না পায় সে জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ উদ্যেক্তাদের এ লাইসেন্স দিলে বেকার সমস্যা দূর হবে।”

অন্যদিকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মন্ত্রণালয় যেভাবে লাইসেন্স নীতিমালা পরিবর্তন করেছে তা টেলিযোগাযোগ আইনে নেই। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত আমরা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছি।”

বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রতিষ্ঠানের আবেদন মূল্যায়ন করে নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি, বাছাই কমিটি করার ক্ষমতা বিটিআরসিরে হাতে রাখা এবং লাইসেন্সের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিটিআরসির চিঠির বিষয়ে টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, “এ ধরনের কোনো চিঠি আমার হাতে আসেনি, তবে যদি চিঠি আসে তাহলে রবিবার বা সোমবার তার জবাব দেওয়া হবে।”

লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হবে উল্লেখ করে সচিব বলেন, “লাইসেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বহাল রাখার জন্যই বিটিআরসিতে চিঠি দেওয়া হবে।”

২০১০ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনের পর টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা বিটিআরসির কাছ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে যায়। এরপর থেকে বিটিআরসি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।

আইনে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত লাইসেন্সের জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করতে হবে। বিটিআরসি সরকারের অনুমোদন নিয়ে লাইসেন্স ইস্যু করবে।

ভিওআইপি লাইসেন্সের খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স পেতে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আবেদন করতে হবে। লাইসেন্স ফি হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা এবং ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে আড়াই লাখ টাকা দিতে হবে।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ভিএসপি (ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার) হিসেবে পরিচিত হবে।

এছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট আয়ের শতকরা ২০ ভাগ সরকারকে দিতে হবে। প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে ফি দিতে হবে এক লাখ টাকা।

লাইসেন্সপ্রাপ্তরা একই সময়ে ৯০টির বেশি কল করতে পারবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বৈধভাবে চার কোটি এক লাখ মিনিট কল রেকর্ড করা হয়। এর বাইরে গড়ে প্রতিদিন এক কোটি মিনিট কল অবৈধভাবে টার্মিনেশন করা হয় যাতে সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়।

বর্তমানে বৈধভাবে প্রতি মিনিট আন্তজার্তিক কলে তিন মার্কিন সেন্ট করে সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/জেকে/১৩০৫ ঘ.
 
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
Share |
 

bdnews-twitter

এ সম্পর্কিত আরো খবর



Rank