চট্টগ্রাম, জুন ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না দেখেই সই করেছিলেন কমিটির সদস্য সচিব শামসুল ইসলাম।
বুধবার চট্টগ্রামের একটি আদালতে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে পুলিশের তৎকালীন ডিআইজি (বিশেষ শাখা) শামসুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন লেখা বা পর্যালোচনার জন্য সদস্য সচিব হিসেবে তাকে জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, “কমিটির প্রধান ওই সময়কার স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক একদিন আমাকে ডেকে সই করতে বলেন। আমি প্রতিবেদন দেখতে চাইলে তিনি তা দেখতে দেন নি। তদন্তের বিভিন্ন সময়ে যাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল তা দেখতে চাইলেও দেওয়া হয়নি।
“প্রতিবেদনের কপি দেখতে চাইলেও তা দেখানো যাবে না বলে জানান ওমর ফারুক। আমি ওই প্রতিবেদন না দেখেই সই করি।”
বুধবার বেলা পৌনে একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষ্য দেওয়া শেষে হাফিজুর রহমানের আইনজীবী মাহমুদুর রহমান তাকে জেরা করেন।
এরপর বিচারক জেরা অসমাপ্ত রেখে আগামী ৩ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ দেন। ওইদিন শামসুল ইসলামের অসমাপ্ত জেরা হবে।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল গভীর রাতে সিইউএফএল এর সংরক্ষিত জেটিঘাটে দশ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটকের ঘটনা তদন্তে গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন তৎকালীন ডিআইজি (বিশেষ শাখা) শামসুল ইসলাম।
কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক। তিনিও এ মামলার সাক্ষী এবং মঙ্গলবার তাকে জেরা করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে শামসুল ইসলাম আদালতে বলেন, “ঘটনার পরপর সিইউএফএল জেটি ঘাট পরিদর্শন করে জানার চেষ্টা করি অস্ত্রগুলো কোন দেশ থেকে এসেছে এবং তৈরি হয়েছে কোথায়। তবে তাও জানা যায়নি।
“সরকারি তদন্ত কমিটি গঠনের পর আমরা কাজ শুরু করি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলি। এসময় এনএসআই’র একজন ফিল্ড অফিসার আকবরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানা যায়।”
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটির সদস্য ও এনএসআই’র তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এনামুর রহমানকে বলা হয়।
এ সম্পর্কে শামসুল ইসলাম আরো জানান, ঘটনার পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ট্রলার মালিক আবদুস সোবহান ও দীন মোহাম্মদের নাম আসে। এছাড়া ট্রাক ভাড়ায় সহযোগিতার বিষয়ে হাফিজুর রহমান ও এনএসআই’র আকবরের নামও আসে।
বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, এনএসআই’র সাবেক দুই প্রধান আবদুর রহিম ও রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, সাবেক পরিচালক শাহাবুদ্দিন, সাবেক উপ-পরিচালক লিয়াকত হোসেন, সাবেক ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন, সিইউএফএল’র সাবেক এমডি মোহসিন উদ্দিন তালুকদার, চোরাচালানি হাফিজুর রহমান ও দীন মোহাম্মদকে আদালতে হাজির করা হয়।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল গভীর রাতে সিইউএফএল জেটি ঘাটে খালাসকালে দশ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করে পুলিশ।
ওই ঘটনায় অস্ত্র ও চোরাচালান মামলায় পৃথক দুটি মামলা হয় কর্ণফুলী থানায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/টিএইচ/এমসি/এইচএ/১৭৪৯ ঘ.