ঢাকা, জুন ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দিনভর সূচকে ওঠানামার পর মঙ্গলবারও দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকলো দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)।
এদিন লেনদেন শেষ হয়েছে সাধারণ সূচকের ঘরে ৪ হাজার ৪০৩ পয়েন্ট নিয়ে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট কম। অথচ ঊর্ধ্বমুখী সূচক নিয়ে লেনদেন শুরুর পর দিনের বেশিরভাগ সময় তাতে আগের দিনের চেয়ে বেশি পয়েন্ট ছিল।
গত ৭ জুন বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই ডিএসইতে টানা দরপতন শুরু হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসের মধ্যে কেবল একদিন ২ পয়েন্ট যোগ হওয়া ছাড়া বাকি সব দিনই সূচক পড়েছে।
মঙ্গলবার লেনদেন হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯০টির, কমেছে ১৪৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দাম। এদিন লেনদেন হয়েছে ১৪০ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকা কম।
কয়েকদিন টানা দরপতনের পর মঙ্গলবার সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই লেনদেন শুরু হয় ডিএসইতে। প্রথম দেড়ঘণ্টার লেনদেনে সূচক প্রায় ৬৩ পয়েন্ট বাড়ে। ওঠানামার মধ্যেই তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সূচক থাকে বৃদ্ধির ধারায়। কিন্তু শেষ ঘণ্টায় পতন শুরু হলে লেনদেন শেষে সূচক আগের দিনের চেয়েও কমে যায়।
সোমবার ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৪১৮ পয়েন্টে হয়। সারা দিনে হাতবদল হয় মাত্র ১৬৩ কোটি টাকার শেয়ার।
সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে লেনদেন হওয়া শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বাড়ে ৪০টির, কমে ২১২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১০টির দাম।
এর আগে রোববার সূচক কমে প্রায় ১১৪ পয়েন্ট। আর গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসই সূচক প্রায় ৬০ পয়েন্ট পড়ে যায়। সব মিলিয়ে ডিএসইতে গত সপ্তাহে সাধারণ সূচক ১৪৮ পয়েন্ট কমে।
টানা দরপতনের কারণে রবি ও সোমবার ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করে বিনিয়োগকারীরা। তারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, গভর্নর আতিউর রহমান ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের পদত্যাগও দাবি করেন।
পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই বিক্ষোভের কারণে ডিএসইর সামনের সড়কের এক পাশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। বিনিয়োগকারীরা পরে এসইসি ভবনের সামনে গিয়েও বিক্ষোভ দেখায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/জেকে/১৫১০ ঘ.