পাবনা, জুন ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ১৩ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে। উপাচার্য ড. মোজাফফর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে যপঠন, বুধবার দুপুরে তার অস্থায়ী কার্যালয়ে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় তারা শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর, গালাগাল ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রাহিদুল ইসলাম, ড. আব্দুল আলিম, ড. পূর্ণমোহন, ড. ফজলুর রহমান, সহকারী প্রক্টর ফজলুল হক, মাহামুদুল হাসান, তানভীর হায়দার, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সোহরাব হোসেন, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, সহকারী পরিচালক (হিসাব বিভাগ) শাহেন শাহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী আহত হন বলে জানান উপাচার্য। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তারা তাকে (উপাচার্য) নিজ কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখায় তিনি হামলা থেকে রেহাই পান, বলেন উপাচার্য। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী নিবন্ধক বিজন কুমার বাদী হয়ে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের আসামি করে থানায় মামলা করেছেন বলেও জানান উপাচার্য। উপাচার্য ড. মো. মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ। গত রোববার আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে ঢাকা-পাবনা সড়ক একঘণ্টা অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এই ঘটনার পরই গ্রীষ্মকালীন ছুটি এক সপ্তাহ এগিয়ে এনে আগমী ৮ জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে একাডেমিক কাউন্সিল। এদিকে সোমবার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মাসুদ রানাকে মারধরের জের ধরে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিরা। উপাচার্যসহ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করে বুধবার সকালে তারা ‘কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের’ ব্যানারে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশে যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা একাত্মতা পোষণ করেন। উপাচার্যপন্থী কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে মাসুদ রানার উপর হামলা হয়েছে বলে সমাবেশে দাবি করেন বক্তারা। এসময় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আরো বলেন, উপাচার্য গত ৩১ মে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদ (রিজেন্ট কমিটি) থেকে পাবনার ২ সংসদ সদস্যসহ আট জনকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ও আত্মীয়-স্বজনদেরকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, মাসুদ রানাকে মারধরের ঘটনায় গণিত বিভাগের শিক্ষক রাশেদ কবিরকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/সিএস/ডিডি/২২৩৪ ঘ. |