ঢাকা, জুন ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে থাকার যোগ্যতা হারানোর পর আগামী আট মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি খার জারদারি।
আদালতের রায় দিয়ে অসন্তোষ থাকলেও ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’ তা মেনে নেওয়ার কথাও প্রেসিডেন্ট বলেছেন বলে পাকিস্তানের দৈনিক ডন বুধবার তাদের অনলাইন সংস্করণে জানিয়েছে।
এদিকে ইউসুফ রাজা গিলানি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অযোগ্য হওয়ায় ওই পদে বস্ত্রমন্ত্রী মাখদুম শাহাবুদ্দিন আসতে যাচ্ছেন বলে জিও নিউজ জানিয়েছে। শোনা যাচ্ছে পানিসম্পদমন্ত্রী আহমেদ মুখতারের নামও।
তবে ক্ষমতাসীন পিপলস পার্টির নেতা সৈয়দ খুরশিদ শাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, শুক্রবার পার্লামেন্ট অধিবেশনেই নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিল হবে।
গিলানিকে অযোগ্য ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরদিন বুধবার পিপিপির সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকেন দলীয় প্রধান আসিফ আলি খান জারদারি। এতে গিলানিও অংশ নেন।
জারদারি বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের স্বার্থে পিপিপি আদালতের আদেশ আপাতত মেনে নিচ্ছে, যদিও এ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।”
গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে, এমন কোনো সুযোগ পিপিপি দিতে চায় না দাবি করে জারদারি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।
গিলানি বলেন, তিনি সংবিধান ও আইন অনুসরণ করবেন এবং নিজের সাধ্যমত দেশের জন্য কাজ করে যাবেন।
এদিকে পাকিস্তানের জিও নিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি জানায়, মাখুদম শাহাবুদ্দিনকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছে পিপিপি। এ নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তারা।
তবে পিপিপি কিংবা প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সংবাদ মাধ্যমের খবর, জাতীয় পরিষদের সদস্য মাখদুম শাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গিলানি আপত্তি তুলেছেন।
গিলানি ও শাহাবুদ্দিন উভয়েই পাঞ্জাবের দক্ষিণাঞ্চলের হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিবেচনায় গিলানি আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট আদালত অবমাননার অভিযোগে গিলানিকে দু‘মাস আগে দোষী সাব্যস্ত করার পর মঙ্গলবার নতুন করে তার বিরুদ্ধে রায় দেয়।
এ রায়ে গিলানিকে প্রধানমন্ত্রী পদে এমনকি পার্লামেন্টে সদস্য হিসাবেও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরি বলেন, আদালত অবমাননা মামলার (২৬ এপ্রিল) রায়ের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আপিল নথিভুক্ত হয়নি... সুতরাং সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি মজলিস ই-শূরার (পার্লামেন্ট) সদস্য থাকার যোগ্য নন।
“তিনি আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নন। এ পদ এখন শূন্য,” বলা হয় আদেশে।
পাকিস্তানের ইতিহাসে গিলানিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির দুর্নীতি মামলা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সুইস কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাতে রাজি না হওয়ার অপরাধে গত ২৬ এপ্রিল গিলানিকে দোষী সাব্যস্ত করে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রেসিডেন্ট হিসাবে আসিফ আলি জারদারির আইনি ছাড় আছে দাবি করে ওই মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে চাননি গিলানি।
পরে আদালতের রায়ে গিলানিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে প্রতীকী সাজা দেওয়া হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমআই/২৩৫১ ঘ.