ঢাকা, জুন ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও দেশত্যাগে বাধ্য করার সাত ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার এই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন রেখেছে।
এর আগে মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয়। তারপর ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে প্রশ্ন করেন- “আপনি দোষী না নির্দোষ?”
জবাবে মুজাহিদ বলেন, “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ”।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর আমি কোনো দিন পালাতক ছিলাম না। আমার নামে কোনো মামলা বা জিডি ছিল না। রাজনৈতিক কারণেই এ মামলা দেওয়া হয়েছে।”
তিন কারণে এই মামলা হয়েছে দাবি করে মুজাহিদ বলেন, “দল হিসাবে জামায়াতের জনপ্রিয়তা, বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বিএনপির সঙ্গে জমায়াত ইসলামী জোট গঠনের কারণেই আজকের এই মামলা।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ‘রূপকার’ উল্লেখ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “তার পাহাড়সম ব্যক্তিত্বের কারণে পি-ির হাত থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু তিনি দেশকে দিল্লির হাতে যেতে দেননি। সেই থেকেই বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন মুজাহিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, তাতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শাখা ইসলামী ছাত্রসংঘের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা মুজাহিদ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদর বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০১০ সালের জুন মাসে গ্রেপ্তার হন জামায়াতের এ নেতা। গত ২৬ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শুরু হয় গত ১১ মার্চ, শেষ হয় ৫ জুন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিসি/জেকে/১২৩৫ ঘ.