ঢাকা, জুন ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চেয়েছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ। লন্ডনে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ পুঁজিবাজার মেলাশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট রাকিবুর রহমান যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বুধবার একথা জানান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হওয়ার আগ্রহ দেখানোর পাশাপাশি কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। রাকিবুর রহমান জানান, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ছাড়াও অনেকগুলো ফান্ড ম্যানেজার, স্টক ব্রোকার, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার্স ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে টিএলজি ক্যাপিটাল, ডয়েচ ব্যাংক, হারগ্রীড অ্যান্ড হেইলস, টমসন রয়টার্স, ওয়েলস ফারগো, ওয়ার্ল্ড পের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলোর মধ্যে টিএলজি ক্যাপিটাল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারেও আগ্রহী। মেলায় অংশগ্রহণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি বাংলাদেশ ইএম ইকুইটি ফান্ড ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তারা বাংলাদেশে আরোও বিনিয়োগ করবেন বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মি. আলেস গ্লাভান জানান। ডিএসই প্রেসিডেন্ট রাকিবুর রহমান বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্পর্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) আগ্রহ দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে তারা বিশাল ভুমিকা রাখতে পারেন। পদ্মা সেতুর অর্থায়নে কোম্পানি গঠন করে ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আইপিওর কোটা রাখা এবং তাদের জন্য বিও একাউন্ট খোলা জটিলতামুক্ত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। লন্ডনে তিন দিনের এ মেলা শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। মেলার শেষদিন প্রায় তিনশ’ প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এক নেটওয়ার্কিং ডিনার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডিএসই সভাপতি রাকিবুর রহমান, যুক্তরাজ্যের ধনাঢ্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ ওবিই, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মুকিম আহমদ, ইউকে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক গোলাম কাদের ও মুহিবুর রহমান মুহিব, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, স্টক ব্রোকার ওয়াকার এ চৌধুরী ও ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ বলেন, ক্যাটারিং সেক্টরের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা ব্রিটিশ অর্থনীতিতে চার বিলিয়ন পাউন্ডের অবদান রাখেন। বাংলাদেশ সরকার এই ক্যাটারিং সেক্টরের ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে পুজিবাজারে বিনিয়োগের বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মুকিম আহমদ বলেন, “ব্রিটিশ অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কয়েক বছর ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগই এই সময়ে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএনপি/এএইচ/এমআই/১৭৪৬ ঘ. |