মুন্সীগঞ্জ, জুন ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক।
হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর আন্দোলনের মধ্যেই রোববার রাতে তুলশীখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
গুলিবিদ্ধ মো. মোক্তার হোসেন (৪০) মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিক্রমপুর সংবাদে কাজ করেন। তিনি গোয়ালখালী গ্রামের প্রয়াত আয়নাল খানের ছেলে।
রোববার রাতে সিরাজদিখান উপজেলার গোয়ালখালী ব্রিজ মোড়ে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী গুলিবর্ষণ করলে মোক্তারের বুক, পেট, কাঁধ ও উরুতে জখম হয়।
স্থানীয়রা জানায়, তুলশীখালী বাসস্ট্যান্ডে রাতে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী খুব কাছে থেকে পিস্তল দিয়ে মোক্তারকে লক্ষ্য করে অন্তত নয়টি গুলি ছোড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় মোক্তার লুটিয়ে পড়েন। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এবং পরে গভীর রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গুলিবিদ্ধ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থানীয় সন্ত্রাসী লিয়াকত হোসেন খুব কাছ থেকে পিস্তল দিয়ে মোক্তারকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
তার স্ত্রী শিলা আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মোক্তার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ বা থানায় কোনো মামলাও হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩টি গুলির খোসা উদ্ধার করে।
এলাকায় দুর্ধষ সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত লিয়াকত হোসেন গোয়ালখালী গ্রামের হেলাল মেম্বারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় পুলিশ লাঞ্ছনার মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, “হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
কেন এই হামলা হয়েছে- জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
তবে তার স্ত্রীর দাবি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এই আক্রমণ হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সন্ত্রাসীদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে মোক্তার ছিল সোচ্চার। তার লেখনীতে তাই ফুটে উঠত। এসব কারণেই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।”
সিরাজদিখান থানার ওসি মাহবুবর রহমান সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- পূর্ব শত্রুতার কারণে এই হামলা হয়েছে।
ওসি মাহবুবর রহমান বলেন, এঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিক্রমপুর সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ সেলিম জানান, কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকাটি সস্ত্রাসীদের বিচরণ ক্ষেত্র। নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ডাকাতি ও পুলিশের ওপর হামলাসহ এলাকায় তাদের নানা সন্ত্রাসী কর্মকা- সম্পর্কে মোক্তার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতেন।
এঘটনায় সোমবার দুপুরে সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জামান পনিরের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভায় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এইচএএইচ/এমআই/এইচএ/১৯৫৬ ঘ.