ঢাকা, জুন ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের খ্যাতনামা দৈত্যাকৃতির কচ্ছপ লোনসাম জর্জ রোববার মারা গেছে। বিজ্ঞানিরা ধারণা করছেন তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গ্যালাপাগোসের কচ্ছপদের একটি উপ-প্রজাতি হারিয়ে গেল।
পিন্টা দ্বীপের কচ্ছপদের শেষ বংশধর লোনসাম জর্জকে খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৭২ সালে। এর পর থেকে জর্জ বিশ্বের বিরলতম প্রাণী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল।
ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্কের কর্মীদের বরাতে জর্জের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন।
বিজ্ঞানিদের হিসাবে তার বয়স হয়েছিল প্রায় একশ’ বছর। এই উপপ্রজাতির কচ্ছপ দুইশ’ বছর বাঁচে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানিরা। সেই হিসেবে জর্জ যুবক ছিল।
গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের কচ্ছপগুলো তাদের বিশাল আকৃতির জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এদের মধ্যে দুইশ’ পাউন্ড ওজনের জর্জও তার বিশাল আকৃতির জন্য সুপরিচিত ছিল।
জর্জের মৃত্যুর কারণ বের করতে তার ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্কের কর্মকর্তারা।
১৯৭২ সালে গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের পিন্টা দ্বীপে হাঙ্গেরিয়ান এক বিজ্ঞানি লোনসাম জর্জকে খুঁজে পান। বিজ্ঞানিদের ধারণা গ্যালপাগোস কচ্ছপদের প্রজাতির মধ্যে জর্জের উপপ্রজাতি চেলোনোইডিস নিগ্রা অ্যাবিংডোনি -এর আর কোনো সদস্য বেঁচে রইল না।
বিশ্বখ্যাত জীববিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন তার বিখ্যাত বিগল জাহাজ অভিযানে এই গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে এসেছিলেন। এই দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপের চড়–ই ও কচ্ছপের মধ্যে পার্থক্য তাকে বিবর্তনের তত্ত্ব তৈরিতে সহায়তা করেছিল।
এর পর থেকে দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ছয়শ’ মাইল দূরে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ বিশ্বের প্রকৃতিবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ হয়ে ওঠে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এবি/এসইউ/১৩১০ ঘ.