ঢাকা, জুন ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের আন্দোলনের মধ্যে রোববারের হাতাহাতির ঘটনার পর এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এই ঘোষণার পাশাপাশি এটিএন বাংলার টক শোসহ সব অনুষ্ঠান বর্জনের জন্যও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিকদের চারটি সংগঠনের পক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের অন্য অংশ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারাও এই কর্মসূচিতে ছিলেন।
রোববারের কর্মসূচিতে ‘হামলা’র জন্য এটিএন বাংলার কয়েকজন সাংবাদিককে দায়ী করে ওই টেলিভিশনের নয়জন সাংবাদিক এবং দৈনিক ভোরের কাগজের একজন সাংবাদিককে দায়ী করে মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ওই ১০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের সাংবাদিক সমাজে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হল।
এই ১০ সাংবাদিক হলেন- এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ ই মামুন, প্রধান বার্তা সম্পাদক ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি শওকত মিল্টন, কেরামত উল¬াহ বিপ¬ব, মানস ঘোষ, নাদিরা কিরণ, মাহামুদুর রহমান, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এস এম বাবু, রাহাত মিনহাজ এবং ভোরের কাগজের প্রতিবেদক শামীম আহমেদ।
সাগর-রুনির খুনি গ্রেপ্তার দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচিও ঘোষণা করেন ইকবাল সোবহান।
মানববন্ধনে প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম মূসা সাংবাদিকদের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাগর-রুনির রক্তের সঙ্গে তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করো না, এই আমার অনুরোধ।”
গত ফেব্রুয়ারিতে সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের পর বিভক্ত সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার মানববন্ধনের সময় নিহত সাগর-রুনিকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের দিকে তেড়ে যান এটিএন বাংলার একদল সাংবাদিক, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সোমবারের মানববন্ধনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাংবাদিক সমাজ জিম্মি হতে পারে না। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সাংবাদিকদের ঐক্য বিনষ্ট করতে পারবেন না।”
“সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পিঠে কেউ কেউ ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করছে, এদের চিহ্নিত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
এটিএন বাংলা সাংবাদিকতার রীতিনীতি ভেঙে সংবাদ প্রচার করছে অভিযোগ করে মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করতে মাহফুজুর রহমানের নির্দেশে গতকাল হামলা চালানো হয়েছে।”
তিনি মাহফুজুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আর কত টাকার গরম দেখাবেন। আপনি কী করেন, না করেন, তা আমরা জানি। আমরা অনুরোধ করলে বিজ্ঞাপন দাতারাও আপনার চ্যানেল বর্জন করবে। তখন কী করবেন?”
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজকে ‘গণমাধ্যমের শত্রু’ আখ্যায়িত করেন।
“গণমাধ্যমের মালিকানা কার হাতে যাচ্ছে এটা দেখতে হবে। যে মালিক তার কর্মীদের স্বীকৃতি দিতে পারে না আমরা এমন মালিক চাই না,” এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনিকে নিয়ে লন্ডনে মাহফুজুর রহমানের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন, রোববারের ঘটনার আংশিক চিত্র প্রচার করে এটিএন বাংলা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে।
হত্যাকাণ্ডের চার মাসেও তদন্তের কোনো সুরাহা না হওয়ার মধ্যে সম্প্রতি মাহফুজুর রহমান লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি পরকীয়ার বলি।
তার এই মন্তব্যে সাংবাদিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। তাকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো।
এই নিয়ে কর্মসূচি চলাকালেই রোববারের ঘটনাটি ঘটে। তবে ওই ঘটনা সম্পর্কে এটিএন বাংলার সাংবাদিকদের দাবি, তাদের ওপরই আক্রমণ হয়েছিল।
ইকবাল সোবহান এটিএন বাংলা এবং এটিএন নিউজে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের হাতে এখনো সময় আছে, আপনারা সিদ্ধান্ত নিন- মালিকের পক্ষে থাকবেন নাকি জনতার পক্ষে, সাংবাদিকতার পক্ষে অবস্থান নেবেন।”
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আব্দুস শহীদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ ও বাকের হোসেন, জাতীয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচির পরে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন সাংবাদিকরা।
সকাল সাড়ে ১০টায় এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা শুরু হয় প্রায় দুপুর ১টায়। এর প্রায় পুরোটা সময় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। এর কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএইচএ/এমআই/১৮২০ ঘ.