চট্টগ্রাম, জুন ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের ‘দুর্নীতির’ কারণেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করেছে বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা বলেন, “পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতিতে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারই জড়িত। এই সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক আর টাকা দেবে না বলে দিয়েছে। ফলে এই সরকারের আমলে আর পদ্মা সেতু হবে না।’’
শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দেয়। গত বছরের এপ্রিলে সাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল।
চুক্তি বাতিলের পক্ষে বিশ্ব ব্যাংক যুক্তি দেখিয়েছে, এই প্রকল্পে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ মিলেছে।
‘দুর্নীতির’ বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ সাড়া না মেলায় প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।”
পদ্মা প্রকল্পে ‘দুর্নীতির’ তথ্য প্রমাণ গত সেপ্টেম্বর এবং গত এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে দেওয়া হয় বলে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে কথিত দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি যুমনা, ভৈরবসহ বড় সেতু নির্মাণ করেছে। এসব সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকসহ দাতা দেশের সহযোগিতা ছিলো। কিন্তু কখনোই সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেনি। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর আগেই সরকার বড় দুর্নীতি করেছে। বিপুল কমিশন পাওয়ার জন্যই তারা এই দুর্নীতি করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দুদক সরকারের কথা মতো চলে।
“বিশ্বব্যাংক বর্তমান সরকারকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছিলো। কিন্তু তারা (সরকার) এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই প্রকল্পে দুর্নীতিতে যে মন্ত্রী জড়িত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি”, যোগ করেন খালেদা।
পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগের আঙুল সৈয়দ আবুল হোসেনের দিকে থাকলেও তিনি বরাবরই বলে আসছেন, কোনো দুর্নীতি হয়নি। তবে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে আবুল হোসেনকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন স্থগিতের পর পদ্মা প্রকল্পে আগ্রহ দেখায় মালয়েশিয়া। দুদেশের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল কুয়ালালামপুরে মালয়শিয়ার সঙ্গে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। গত ২৮ মে অর্থায়নের বিষয়ে ধারণা-প্রস্তাব দেয় তারা। সর্বশেষ গত ২৮ জুন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে খসড়া প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া।
সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “এখন তারা বিভিন্নভাবে চড়া সুদে পদ্মা সেতু নির্মাণের চেষ্টা করছে। কিন্তু ওই চড়া সুদের ভার জনগণের ওপর পড়বে।’’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এমন ঘোষণাও দেন যে, ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে। একটি মাওয়ার কাছে এবং অন্যটি দৌলতদিয়ার কাছে।
শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যান খালেদা। প্রথমে তিনি পাহাড়তলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পরে লালখাঁন বাজার এবং সর্বশেষ বহদ্দারহাটে শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পাহাড়ধস ও অতিবর্ষণে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
এ সময় তিনি চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আবার এখানেই তিনি শাহাদাৎ বরণ করেছেন। তাই আপনাদের বলব, বিএনপি চট্টগ্রামের জন্য অতীতেও উন্নয়ন করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।
তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করারও আহবান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসন প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বহদ্দারহাটের জলাবদ্ধতা দূর করবে।
এ সময় বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, আবদুল্লাহ আল নোমান, এম মোরশেদ খান, গিয়াস কাদের চৌধুরী, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মঞ্জুর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ বিতরণ শেষে খালেদা জিয়া সার্কিট হাউজে ফিরে যান। রাতে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এমসি/এইচএ/২০৩৭ ঘ.