লাবলু আনসার,
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
নিউইয়র্ক, ৩০ জুন (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নিউইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত ৪৮ ঘণ্টায়ও তার অবস্থার উন্নতি ঘটেনি জানিয়ে হাসপাতালে অবস্থানরত অন্য প্রকাশের স্বত্তাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে রাখা হয়েছে।
লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সবার দোয়া চেয়েছেন স্বামীর আরোগ্যের জন্য।
মাজহারুল ইসলাম জানান, ১২ জুন এই হাসপাতালে বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের পর বাসায় ফিরেছিলেন হুমায়ূন। সবকিছু ঠিকমতই চলছিল। ২০ জুন হঠাৎ করেই লেখকের পেট ফুলে যায়। তিনি আর্তচিৎকার করতে থাকেন। স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ পরিবারের কাউকেই চিনতে পারছিলেন না।
সঙ্গে সঙ্গে তাকে কাছের জ্যামাইকা হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা বলেন, তার অস্ত্রোপচারের স্থলে ইনফেকশন হয়েছে। এরপর লেখককে স্থানান্তর করা হয় বেলভ্যু হাসপাতালে। সেখানে ডা. শাহ এবং ডা. রীনার সহায়তায় সার্জন ডা. মোর আবার লেখকের অস্ত্রোপচার করেন। সেই থেকে ওই হাসপাতালের আইসিইতে রয়েছেন হুমায়ূন।
এ অবস্থায় আবারো ২৮ জুন অস্থির হয়ে উঠেন হুমায়ূন।
প্রবাসী লেখক গাজী কাশেম এবং নিউ ইয়র্কের মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, “হঠাৎ করেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। লেখক বলতে থাকেন, কুসুম (শাওনের আরেক নাম) ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, এখান থেকে তুমি আমাকে বাসায় নিয়ে যাও। এভাবে আর্তচিৎকারের সঙ্গে ব্যান্ডেজও খুলে ফেলছিলেন তিনি। পরিস্থিতির আকস্মিকতায় মেহের আফরোজ শাওনসহ সকলেই হতভম্ব হয়ে উঠেন। চিকিৎসকরা ছুটে আসেন। ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয় লেখককে।”
১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া হুমায়ূন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই লেখালেখি শুরু করে সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তারপর ধীরে ধীরে দেশের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিকে পরিণত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এই শিক্ষক। লেখালেখিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠার পর অধ্যাপনা ছেড়ে দেন তিনি।
টিভিতে নাটক লিখে ও নিদের্শনা দেওয়ার পর চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ূন। এ জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।
ক্যান্সার ধরা পড়ার পর গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান-কেটরিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন একুশে ও বাংলা একাডেমী পদকে ভূষিত এই লেখক।
দুই পর্বে মোট ১২টি কেমো থেরাপি নেওয়ার পর তার এমআরআই করা হয়। এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
অস্ত্রোপচারের আগে পরিবার-আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে গত মাসে দুই সপ্তাহের জন্য দেশে আসেন হুমায়ূন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএ/এএইচ/জিএনএ/২০১৪ ঘ.