ঢাকা, জুলাই ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিজ্ঞানীরা একটি নতুন ‘অতিপারমাণবিক’ কণার সন্ধান পাওয়ার পর প্রখ্যাত তত্ত্বীয় পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং বলেছেন, হিগস-বোসন কণা যার নামে হয়েছে সেই পিটার হিগসকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিৎ।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক হকিং মজা করে বলেন, ওই কণার সন্ধান পাওয়ায় তাকে বাজিতে একশ ডলার হারাতে হয়েছে।
এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর ভর এলো কোথা থেকে- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ১৯৬৪ সালে নতুন এক কণা কল্পনা করেন হিগস। পরে তার নামের সঙ্গে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামের অংশ মিলিয়ে এই কণার নাম রাখা হয় হিগস-বোসন কণা।
ইউরোপীয় সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চের (সার্ন) বিজ্ঞানীরা বুধবার ঘোষণা দেন, ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিতি পাওয়া কণাটির খোঁজে দীর্ঘ গবেষণার পর তারা এই নতুন বোসন কণার সন্ধান পেয়েছেন, যার ভর হিগস কল্পিত কণার কাছাকাছি।
এর প্রতিক্রিয়ায় দুরারোগ্য মোটর নিউরনে আক্রান্ত হকিং বিবিসিকে বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এবং এর জন্য পিটার হিগসের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিৎ।”
তিনি আরো বলেন, “এটি চমৎকার, পরীক্ষার মাধ্যমেই পদার্থবিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি এসেছে। আর তা এমন চমকপ্রদ ফলাফল দিচ্ছে যা আমরা প্রত্যাশাই করিনি।
“আমি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ডন কেনের সাথে বাজি ধরে একশ ডলার খুইয়েছি বলে মনে হচ্ছে। আমি বলেছিলাম, হিগস-বোসন কণা কখনই পাওয়া যাবে না।”
সার্নের কণা পাওয়ার ঘোষণায় বুধবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অধ্যাপক পিটার হিগস। তিনি বলেন, “এই অর্জনের জন্য গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। জীবদ্দশায় আমি এটি দেখে যেতে পারবো তা কল্পনাও করতে পারিনি।”
নোবেল পুরস্কারের নিয়ম অনুযায়ী, কেবল তারাই পদার্থবিদ্যায় এ পুরস্কার পেতে পারেন, যাদের মৌলিক ধারণা, চিন্তা বা কাজ গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে হকিং বিগ ব্যাংসহ বেশ কয়েকটি তত্ত্বের অবতারণা করলেও তার এসব কাজ কখনো নোবেলের জন্য বিবেচিত হয়নি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/সিআর/০৯৩৬ ঘ.