ঢাকা, জুলাই ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গত অর্থবছরের (২০১১-১২) রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
এরই মধ্যে সরকার নতুন অর্থবছরের (২০১২-১৩) জন্য ২ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক সভায় গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের হিসেব দেওয়ার পর নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
২০১২-১৩ অর্থবছরের জাতীয় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে অনুষ্ঠিত এই সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, গত অর্থবছরে (২০১১-১২) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৪৪১ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
এটি আগের অর্থবছরের (২০১০-১১) তুলনায় সাড়ে ছয় শতাংশ বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত দশমিক ৮৬ শতাংশ কম।
২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ২ হাজার ২৯২ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
মন্ত্রী বলেন বলেন, “ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে গত অর্থবছর রপ্তানি আয় কমেছে। তবে আগামী বছর এ অবস্থা থাকবে না।”
কয়েক বছরের রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ অবস্থায় আগামী বছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি (২৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার যা গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
গত অর্থবছরে গার্মেন্টস খাতের রপ্তানি আয় কমেছে বলেও জানান গোলাম কাদের।
সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পক্ষ জানানো হয়, বিশ্ববাণিজ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী অর্থবছরে বিদেশে বাংলাদেশের ৪৪টি মিশনের মধ্যেই ২১টি তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।
সভায় বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) চেয়ারম্যান সুভাশীষ বসু, এফবিসিসিআই প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয় ও ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমকে/এসইউ/১৫৩৩ ঘ.