ঢাকা, জুলাই ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে পানি ব্যবস্থাপনাসহ আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ঢাকা সফররত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি। জল ব্যবস্থাপনা খুবই প্রয়োজনীয় কারণ আমরা বিপুল পরিমান পানি অপচয় করছি। পানির সঠিক ব্যবহার করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিৎ এক সঙ্গে কাজ করা।”
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দিয়ে ৫৪টি অভিন্ন নদী থাকলেও কেবল একটি নদীর পানির পানি বন্টনে চুক্তি রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও মূলত পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা হয়নি।
পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে প্লাস্টিকজাত পণ্যের পরিবর্তে পাটজাত পণ্যের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের এক সঙ্গে কাজ করা উচিৎ বলে মনে করেন এই ৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট।
‘মিসাইল ম্যান’ হিসিবে পরিচিত কালাম জানান, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই তিনি কৃত্রিম উপগ্রহের ওপর গবেষণার কাজ শুরু করেছিলেন।
“কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সবার ক্ষেপনাস্ত্র থাকায় আমাকেও ক্ষেপনাস্ত্রের ওপর গবেষণা করতে হয়।”
তবে ক্ষেপনাস্ত্রের উন্নয়নে ভারত অপেক্ষাকৃত কম অর্থ ব্যয় করে বলে তিনি জানান।
নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমানো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতের সফল রাষ্ট্রপতিদের একজন কালাম।
তিনি বলেন, “সারা বিশ্বে বায়ুমণ্ডলে প্রতিবছর ৩০ বিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এ জন্যই সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, পরমাণু শক্তি ও জৈব জ্বালানির ওপর আমি জোর দিচ্ছি।”
সিরডাপের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার ঢাকায় আসেন ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা কালাম।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/আরআরডি/এসইউ/১৬৫৪ ঘ.