ঢাকা, জুলাই ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ছাঁটাই করা কর্মীদের দাবি নিয়ে আলোচনা চলার কথা জানিয়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বলেছে, তবে এসব সমাধানে সময় লাগবে।
দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির সোমবার স্থানীয় এক হোটেলে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “রোববারের ঘটনায় কর্মীরা যে দাবি উত্থাপন করেছে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিছু দাবি তাৎক্ষণিক মেনে নেওয়া হয়েছে।”
যে ৪৮ জন কর্মচারীকে রোববার কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তারা সোমবার থেকে অফিস করছেন বলেও জানান গ্রামীণফোনের এই কর্মকর্তা। মনিরুল বলেন, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এসব কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ রয়েছে।
রোববার ঢুকতে না পেরে এসব কর্মী কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়।
তাদের পাঁচটি দাবি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে জানিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা বলেন, “এ দাবি-দাওয়া সমাধানে কিছু সময় লাগবে।”
তবে সমাধান হতে কত সময় লাগবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি মনিরুল কবির।
পাঁচ দফা দাবিতে গ্রামীণফোনের এমপ্ল¬য়িজ অ্যাসোসিয়েশন ও স¤প্রতি ছাঁটাই হওয়া কর্মচারীরা রোববার গ্রামীণফোন প্রধান কার্যালয় অবরোধ করে রাখে।
সে সময় এমপ্ল¬য়িজ অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি পরিচয়দানকারী শফিকুর রহমান মাসুদ জানিয়েছিলেন, অবিলম্বে অনৈতিক ছাঁটাই প্রক্রিয়া বন্ধ করা, যৌক্তিকহারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া, কোম্পানির কাছে ন্যায্য পাওনা বাবদ ৫% মুনাফা লভ্যাংশ বকেয়াসহ প্রদান করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সব বেআইনি কার্যক্রমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখিন করারও দাবি জানান তিনি।
কাজী মনিরুল কবির জানান, গত এক বছরে গ্রামীণফোন থেকে ৭১ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং ১৬৬ জন ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রামীণফোনে নিয়ম অনুযায়ী কর্মী ছাঁটাই করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই রিফর্ম প্রসেস করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে যারা উত্তীর্ণ হতে পারেন না তাদের আইন অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়।”
ছাটাইকৃত কর্মীদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন মনিরুল।
তিনি জানান, কর্মীদের ৪ মাসের মূল বেতন, অর্জিত ছুটির টাকা, উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি, ১২ মাসের মোট বেতন, পারদর্শিতা বোনাস ইত্যাদি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া কর্মচারীরা যদি অফিস থেকে গাড়ি কেনা বা অন্য বিষয়ে ঋণ নিয়ে নেন তাহলে ছাটাইকৃত কর্মীদের সে ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হয় বলেও জানান মনিরুল কবির।
প্রতিষ্ঠানের হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসেন বলেন, একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে গ্রামীণফোনের কর্মী ছাটাই করা হলেও এ সময়ের মধ্যে ছাঁটাইকৃত কর্মীর সংখ্যা থেকে বেশি সংখ্যাক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের হেড অব কর্পোরেট কমিউনিকেশন তাহমিদ আজিজুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/এএল/২১১৯ ঘ.