শামীম আহমেদ ও শহীদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকা, জুলাই ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পরনে হলুদ পাঞ্জাবি, খালি পা, হাতে ফুল। চেহারায় শোকের বিষাদ। নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের অনবদ্য সৃষ্টি হিমুর অনুকরণে ‘বাস্তবের হিমুরাও’ প্রিয় লেখককে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে গিয়েছেন শহীদ মিনারে।
শহীদ মিনার চত্বরের শোকমঞ্চে দাঁড়িয়ে লেখকের কফিন জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেল তার বড় ছেলে নুহাশকে, হিমুস্রষ্টার সম্মানে তার পরনেও হলুদ পাঞ্জাবি।
সোমবার সকালে হুমায়ূনের শবদেহ নিয়ে এমিরেটসের ফ্লাইট যখন শাহজালালে নামছিল, তখনই শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেছেন ভক্ত-পাঠকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। এদের মধ্যে ছিলেন ‘বাস্তবের’ হিমুরাও।
প্রিয় লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে হিমুর বেশ ধরে খালি পায়ে শহীদ মিনারে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রওনক ফেরদৌস।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “হিমু আমার পছন্দের একটি চরিত্র। নতুন করে আমরা আর হিমুকে দেখতে পাব না। তাই হিমুর বেশেই শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।”
হলুদ পাঞ্জাবি পরে শহীদ মিনারে এসেছিলেন প্রকৌশলী ওবায়দুর রহমান। প্রিয় লেখকের মৃত্যু সংবাদ শুনেই তিনি কিনেছেন এই পাঞ্জাবি।
ওবায়দুরের মতে, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য তার ‘যান্ত্রিক’ জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিত। তাই তিনি লেখকের জনপ্রিয় একটি চরিত্রের বেশেই এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে।
মিরপুরের ব্যবসায়ী ফয়সাল আলম খালি পায়ে না এলেও হলুদ পাঞ্জাবি পড়তে ভুল করেননি। হুমায়ূনের লেখা নাটকের ভক্ত এই ব্যবসায়ী বলেন, “শুনেছি স্যারের লেখা যারা পড়ে তারা নাকি হিমু হয়ে যায়। তাই আমিও হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে এসেছি।”
হলুদ টি-শার্ট পরেও লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে এসেছিলেন অনেকেই। হাতে ফুল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাদের প্রিয় লেখককে।
এদেরই একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ। তিনি বলেন, “আর কখনোই প্রিয় লেখকের নতুন বই পাব না। ভাবতেই খারাপ লাগছে।”
বেলা সোয়া ১২টার দিকে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি শুরু হলেও দমাতে পারেনি হুমায়ূনের ভক্তদের। বৃষ্টিতে ভিজেই প্রিয় লেখককে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা।
সোমবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর ১০টা ২২ মিনিটে তার কফিনবাহী অ্যাম্বুলেন্স শহীদ মিনারে পৌঁছায়। সবার শ্রদ্ধা জানানো শেষে তার জানাজা হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। মঙ্গলবার তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/এসআই/আরএ/১৭৩০ ঘ.