আল-আরিশ (মিশর), অগাস্ট ৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- ইসরায়েল সীমান্তবর্তী মরুময় সিনাইয়ে বৃহস্পতিবার আবার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টিভি।
মিশরের সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর একদিন পর আল-আরিশ শহরের কাছে এ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
আল আরিশের পুলিশ স্টেশনের সামনে অস্ত্রধারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার মিশরের সীমান্ত চৌকিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৬ পুলিশকে হত্যার পর থেকে ওই অঞ্চলের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামিরক অভিযান শুরু হয়েছে। মিশরের গোয়েন্দা প্রধান এবং সিনাইয়ের গভর্নরকেও ইতোমধ্যে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।
বুধবার মিশরীয় সেনা ও বিমান হামলায় অন্ততপক্ষে ২০ জঙ্গি নিহত হয়।
মিশরের এক সেনা কমান্ডার বলেন, “আমরা সাফল্যের সঙ্গে আল তৌমাহ গ্রামে ঢুকি এবং ২০ জঙ্গিকে হত্যা করার পাশাপাশি তিনটি সাঁজেয়া যান ধ্বংস করি। এই যানগুলো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ছিল। এখনো অভিযান চলছে।”
তিনি আরো জানান, সেনা বাহিনীর কাছে তথ্য আছে, আল-তৌমাহ গ্রামে অনেক জঙ্গি অবস্থান করছে।
রোববার জঙ্গিরা গাজা থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে সিনাইতে ঢুকে পড়ে একটি চৌকিতে হামলা চালিয়ে ১৬ পুলিশ সদস্যকে হত্যার পর সেখান থেকে দু’টি গাড়ি চুরি করে ইসরায়েল সীমান্তের দিকে রওনা হয়। পরে ইসরায়েলি সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে সবাই নিহত হয়।
এরপরই মিশর কর্তৃপক্ষ হামলাকারীদের নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
ওই হামলার পর সোমবার আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল হোসেন তানতাবি।
সোমবার মিশরের তল্লাশি চৌকিতে হামলাকারী ৮ জঙ্গি নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক বলেন, এ ঘটনায় “মিশরের ঘুম ভাঙবে” বলে তারা আশা করছেন।
মিশর সিনাই উপদ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইসরায়েল।
ফেইসবুকে নিজেদের পাতায় মিশরের সেনাবাহিনী উল্লেখ করেছিল, “সিনাইয়ে অস্থিরতা বাড়তে থাকলেও সেনাবাহিনী এখনো ধৈর্য্য ধরে আছে। তবে অস্থিরতা মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে আর সহ্য করা হবে না। এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে মিশরীয়রা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করবে না।”
ওই ঘোষণার দু’দিনের মধ্যেই সিনাই উপদ্বীপে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলো মিশর।
১৯৭৯ সালে মিশর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তির শর্তানুযায়ী মরুময় সিনাই উপদ্বীপ থেকে সেনা অবস্থান সরিয়ে নেয় মিশর। কিন্তু সেনা অনুপস্থিতির সুযোগে এলাকাটি বেদুইন লুটেরা ও সীমান্তবর্তী গাজা থেকে আসা ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/সিআর/এলকিউ/১৬৫৬ ঘ.