সর্বশেষ :
partners logo
6:08 am BdST, Wednesday, May 22, 2013
তিস্তা ট্রানজিটের শর্ত নয়, তবে জরুরি: দীপু মনি
Wed, Aug 8th, 2012 12:42 pm BdST
 
ঢাকা, অগাস্ট ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ভারতকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি কোনোভাবেই ‘শর্ত’ নয়। তবে তিস্তা চুক্তির বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি।

স¤প্রতি ভারতের এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতবছর সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হয়েছে।

“আমরা চাই, বিষয়টি দ্রুত হয়ে যাক। আমরা অপেক্ষায় আছি। আর আমরা চাই, দেরি না করে তাড়াতাড়িই এটা হোক।”

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, দুপক্ষই এ ব্যাপারে কাজ করছে। সড়ক, নৌ ও রেল ট্রানজিটের বিষয়গুলো জড়িত থাকায় এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণগুলো মিলিয়ে দেখে অবকাঠামো ও আইনগত বিষয়গুলো ঠিক করা হচ্ছে। এ জন্যই এ কাজে কিছুটা সময় লাগছে।

তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে ট্রানজিট আটকে আছে কি না- এনডিটিভির এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ট্রানজিটের বিষয়টি কোথাও কোনো কারণে আটকে নেই। নিজস্ব গতিতেই এর কাজ চলছে।

“আমি মনে করি না যে এটা (ট্রানজিট) তিস্তার ওপর নির্ভর করছে। তবে তিস্তা চুক্তি হলে অবশ্যই তা সহায়ক হবে।”

গতবছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে একেবারে শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। মনমোহন সিং বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন।

দীপু মনি এনডিটিভিকে বলেন, গত বছর নভেম্বরে ব্যাঙ্গালুরুতে আইওআরসি’র বৈঠক শেষে ফেরার পথে তিনি কলকাতায় মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তদের মধ্যে তিস্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আসামের দাঙ্গা দ্বিপক্ষীয় বিরোধের বিষয় নয়’

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আদিবাসী বোড়ো স¤প্রদায় ও মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে চলমান দাঙ্গার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের দায়ী করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যে অভিবাসন হয়েছে তার একটি ইতিহাস আছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এটা বড় আকারে হয়েছে। একাত্তরে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরে তাদের বেশিরভাগই ফিরে আসে।

ভারতের এসব অভিবাসীদের নিয়ে যে রাজনৈতিক ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে তার যৌক্তিক সমাধান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আসামে গত মাসে শুরু হওয়া এ জাতিগত দাঙ্গায় এ পর্যন্ত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। দেশটির প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ দাঙ্গার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের দায়ী করে আসছে।

ভারত সরকার এ অভিযোগ নিয়ে এখনো বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, এটি কোনোভাবেই বাংলাদেশ ও ভারতের ‘দ্বিপক্ষীয় বিরোধের’ বিষয় নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসামের ঘটনার সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মেলানোর কোনো সুযোগ নেই।

“অর্থনৈতিক কারণে বা কোনো আত্মীয়ের জন্য কোনো একজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে বা এখান থেকে মিয়ানমারে যাচ্ছে- বিষয়টি এমন নয়। এটা গণহারে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার মতো ব্যাপার।

“আমি নিশ্চিত যে, স¤প্রতি আসামে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমন কিছু ঘটে থাকলে সেটা ১৯৪৭ সালে ঘটেছিলো, এখন নয়”, বলেন দীপু মনি।

বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী এনডিটিভিকে বলেন, ১৯৭৯ ও ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যায় রোহিঙ্গা আসে। তখন সরকার এই শরণার্থীদের সব ধরনের সহায়তা দেয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর তাদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করা হয়।

গত মাসে দাঙ্গার মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “অবৈধভাবে প্রবেশকারীরা শরণার্থী নয়। তাহলে আপনি কিভাবে তাদের বিষয়টির সুরাহা করবেন। তাদের ফেরত পাঠাতে হবে এবং তাদের ফিরে যাওয়াটাই একমাত্র সমাধান।”

বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের খাবার, পানি, ওষুধ ও অর্থসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো করেছি।”

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্তে বিএসএফের হত্যা বন্ধের দাবিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় অনেক অর্জনকেই ম্লান করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

“সংখ্যায় কমে আসলেও সীমান্ত হত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এবং আমি মনে করি, এর কারণে অন্য সব অর্জন নস্যাৎ হচ্ছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএইচ/জেকে/১২৩০ ঘ.
 
WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.
Share |
 

bdnews-twitter



Rank