বরগুনা, অগাস্ট ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বরগুনার সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ১১টি ট্রলারসহ দুই শতাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। এছাড়া একটি ট্রলার জলদস্যুরা গুলি করে ডুবিয়ে দিলে ১৪ জেলে নিখোঁজ হয়েছে বলে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন। ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী শুক্রবার দুপুরে বরগুনার পাথরঘাটায় সাংবাদিকদের এ খবর জানান। বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মান্নান মাঝি বলেন, বৃহস্পতিবার সারাদিন সাগরে মাছ ধরে রাতে জেলেরা সুন্দরবনের বেদারহালি হ্যালার খালের কাছে অবস্থান নেয়। রাত ৮টার দিকে সাতটি ট্রলারে আসা ৬০ থেকে ৭০ জন সশস্ত্র জলদস্যু হামলা চালায়। তারা ট্রলারে থাকা নগদ টাকা, জ্বালানি তেল, ট্রলারের যন্ত্রাংশ এবং ইলিশ মাছসহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে। জলদস্যুরা নিয়ে যায় পাথরঘাটার ট্রলার এফবি তানিসা, এফবি তরিকুল, এফবি সীমা, বাগেরহাটের এফবি খানজাহান আলী, এফবি রুপক, এফবি লাকি, পিরোজপুর পাড়েরহাটের এফবি মা গঙ্গা, এফবি পাপ্পু, এফবি আউলিয়া, এফবি কলি ও তহমিনা। এসব ট্রলারের সঙ্গে অপহৃত জেলেরা হলেন হারুন মল্লিক, সিদ্দিক, কাওসার মাঝি, শাহিন মাঝি, ইব্রাহীম মাঝি, জগদীশ মাঝি, ওহিদুল মাঝি, ছাত্তার মাঝি, নয়ন মাঝি, এফরান মাঝি ইউনুস, জয়নাল, হাবিব, জহিরুল, আলম, মকবুল ব্যাপারী, হাসান, বিপ্লব, সজল, হানিফা, ফিরোজ, কামরুল, হানিফ। বাকিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ডাকাতির পর ফিরে আসা বরগুনার শুক্কুর কোম্পানীর এফবি শাহপরান ট্রলারের মাঝি কালাম মিয়া বলেন, সুন্দরবনের জলদস্যু জিহাদ, আব্বাস, জুলফু র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর জিহাদ বাহিনীর রফিক, জুলফু বাহিনীর শহিদুল ও আব্বাস বাহিনীর দেলোয়ার নুতন বাহিনী গড়ে তোলে। তিনি আরো বলেন, যেসব ট্রলার জলদস্যুরা নিয়ে গেছে সেগুলোর প্রত্যেকটিতে আট থেকে ১০ হাজার করে ইলিশ মাছ ছিল। দুইশ’রও বেশি ট্রলারের প্রত্যেকটি থেকে ১/২ জন করে জেলে অপহরণ নিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এফবি অলী ট্রলারের মালিক রেজাউল বলেন, ট্রলারে ডাকাতির সময় পালানোর সময় গুলি করে এফবি অয়ন নামের একটি ট্রলার ডুবিয়ে দেয়। ওই ট্রলারের ১৪ জেলে বয়া নিয়ে সাগরে নেমে গেছে বলেতিনি জানান। তিনি বলেন, জলদস্যুরা জেলে প্রতি একলাখ টাকা এবং ট্রলার প্রতি ৫ লাখ টাকা করে দাবি করেছে। কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের পাথরঘাটা স্টেশন কমান্ডার লে. মো. ইসতিয়াক আহম্মেদ বলেন, তিনি ডাকাতি হওয়ার কথা জেলেদের কাছ থেকে শুনে মংলা পশ্চিম জোন থেকে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। মংলা পশ্চিম জোন টহল দলের অধিনায়ক লে. কমান্ডার হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের টহল অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি গভীর সমুদ্রে হওয়ায় কোস্টগার্ডের টিম পৌঁছানোর আগেই দস্যুরা ডাকাতি করে সুন্দরবনের গহীনে চলে গেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/ডিডি/১৯২৯ ঘ. |